ম্পাদকীয় ত্যাগীদের জায়গা,এখন চাটুকারদের দখলে

একসময় যারা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ঘোর বিরোধী কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনাই ছিল যাদের কাছে মুখ্য তারাই এখন দলের দরদি সেজে চাটুকারের ভূমিকায়। চাটুকার ও অতি উৎসাহীদের ভূমিকায় মনে হয় তারা না হলে ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগ রসাতলে যাবে। যারা দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কোন স্বার্থছাড়া দলের জন্য কাজ করছেন। আজ তারা পদে পদে অবহেলিত। দখলে আছে চাটুকারদের । যারা ৫ জানুয়ারী আগে আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ পদ গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আজ
অতি উৎসাহীদের ভিড় আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সেই নেতারা অবেহেলিত। টানা দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অতি উৎসাহীদের বিচরণ যেন সর্বত্র।আমরা পত্রিকায় পড়েছি যে, ৫ জানুয়ারী আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল কমিটিতে ছাত্রলীগের পদ দেওয়ার মত কোন কর্মী খুজেঁ পাওয়া যায়নি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হাতে গুনা কয়েকজন কর্মী নিয়ে মিছিল করেছেন জবি ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা।যখন সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসল ধীরে ধীরে বাড়তে থাকল চাটুকারদের পরিমাণ।

যারা জীবনে এক মুহূর্তের জন্যও আওয়ামী লীগের আদর্শের রাজনীতি করেননি কিংবা ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছিল শক্ত অবস্থান তারাই এখন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি চিন্তিত। এবং যারা এক সময়
বলত বিএনপি আসলে পিঠে ছালা বেধে রাখ মাইর একটাও মাটিতে পড়বেনা। তারাই এখন দেখি বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ জিয়ার গালা গালিতে ব্যাস্ত । যে ছেলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি স্টাটাস দিয়েছে আজ দেখ সেই ছেলে ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা । আর এসব অতি উৎসাহীর আচরণে আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা খুবই বিরক্ত ও রুষ্ট। অতি উৎসাহীদের আচরণে মনে হয়, দলের দুর্যোগে-সংকটে একমাত্র তারাই ছিলেন, তারাই থাকবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরপর দুবার ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগে এবার ব্যতিক্রম চিত্র। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা যখন উপেক্ষিত তখন সংগঠনে ছড়ি ঘোরানোর স্পর্ধা দেখিয়ে চলেছেন এ অতি উৎসাহীরাই। দলকে বিতর্কিত করেই তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। সর্বত্রই তাদের পদচারণা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসন, মিডিয়াপাড়া থেকে শুরু করে ক্ষমতার কেন্দ্রে অতি উৎসাহীদের শক্ত অবস্থান। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী-নেতা এবং সংসদ সদস্যদেরও কৌশলে ঘিরে রেখেছেন অতি উৎসাহীরা। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা যেখানে উপেক্ষিত সেখানে অতি উৎসাহী ও সুবিধাবাদীদের প্রাধান্য আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলটির জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা। প্রবীণ এক সাংবাদিক এই শ্রেণির দরদি ও অতি উৎসাহীদের ‘মোর ক্যাথলিক দ্যান পোপ’ আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, ‘এদের অধিকাংশই মৌসুমি পাখি। এরা দানা খেয়ে হাওয়া হয়ে যায়। ’ যারা থেকে যায় তারা আশা করে কিয়ামততক দলের যত রস আছে নিংড়ে নিংড়ে তা খাবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক ও প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীর মতে, এরা সব সুযোগসন্ধানী, এক ডাল থেকে আরেক ডালে ঘুরে বেড়ায়। নিজেদের স্বার্থ হাসিল হলে সরে পড়বে। দলে অতি উৎসাহী ও চাটুকারদের আচরণে মনে হয়, তাদের পরামর্শেই চলছে সরকার। আবার কেউ কেউ এমন ভঙ্গি করছেন যার অর্থ দাঁড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা করছেন সবই তার পরামর্শে করছেন। দলের নেতা-কর্মীরা অবশ্য এদের চিত্রিত করছেন ‘ভণ্ড’ হিসেবে। আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, অতি উৎসাহীদের চাটুকারিতা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে তারা উত্তরণ চান।
মাঠের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, একসময় যারা ভিন্ন আদর্শের রাজনীতি করতেন এবং দলের সংকটকালে যাদের চেহারাও দেখা যায়নি তারাই এখন বড় আওয়ামী লীগার। সরকারের রাজনৈতিক নিয়োগ থেকে শুরু করে, ব্যবসা-বাণিজ্যে সুবিধা আদায় এমনকি ব্যাংক-বীমা, বেসরকারি টিভি চ্যানেল, বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের মালিকানা হাতিয়ে নিচ্ছেন এসব সুবিধাবাদী। কেউ কেউ সুদূর আমেরিকা, ব্রিটেনসহ ইউরোপের উন্নত দেশ থেকে ছুটে এসেছেন টাকার কুমির হওয়ার মতলবে এবং কুমির হয়েছেনও। দলের মন্ত্রী, নেতা, এমপি সবই যেন সুবিধাবাদীদের মুঠোয়। ত্যাগী নেতা-কর্মীদের আশঙ্কা- এভাবে চলতে থাকলে চাটুকারদের প্রবল সে াত একসময় আদর্র্শিক নেতা-কর্মীদের হতাশার সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে লক্ষ্যচ্যুত হতে পারে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগ।
লেখক: শাহআলম ব্যাপারী
সম্পাদক  সময় ট্রিবিউন

শেয়ার করুন