বাংলাদেশের দ্বিপিকা নড়াইলের সুমা নুসরাত

বিনোদন প্রতিবেদক :: বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীর অভিষেক হয়েছে খুবই সাধারণ ভাবে। গেল বছর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছবি আপলোড করে তানহা তাসনিয়া নামের এক আলোচিত তরুণী নায়িকাও হয়ে গেলেন ঢালিউড পাড়ার। ২০১৬ সালে রফিক সিকদার পরিচালিত ‘ভোলা তো যায় না’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তানহা। ছবিটি সেবছর ব্যাপক সারা ফেলেছি দর্শকদের মাঝে। এবার ভার্চুয়াল লাইফে নয়, বাস্তব জীবনের চেহারা পাতার থেকে উঠে আসা তেমনি হার না মানা এক ময়ূসী নারী অভিনেত্রীর কথা জানাবো আজ, দেখতে অনেকটাই বলিউডের দ্বিপিকার পাড়কোনের মতো। মায়াবী চেহারা আর ডাগর দুটি চোখের চাউনিতে লুট হয়ে যেতে পারে দর্শকদের হৃদয়। প্রথম দেখাতেই যে কেউ ভুল করে বলে ফেলতে পারে সে জুনিয়র দ্বিপিকা! তেমনি এক অদম্য মেধাবী, জীবন যুদ্ধের সংগ্রামী অভিনেত্রী সুমা নুসরাত। জন্ম ১৯৯৭ সালে নড়াইল জেলার আউড়িয়া গ্রামে। মফস্বলে পড়ে থাকার কারনে হয়তো বাংলাদেশের বড় বড় সব পরিচালক প্রডিউসারদের নজরে পড়তে পারেনি, তাই বলে কি থেমে থাকবে সুমা? ব্যক্তিগত জীবন যুদ্ধে কাউকে পরোয়া না করে ছুটছেন অদম্য প্রাণশক্তি নিয়ে। চোখে-মুখে তার হার না মানা প্রত্যয়। টেলিভিশন পর্দায় রাতারাতি লাইমলাইটে না আসতে পাড়লেও থেমে নেই তিনি। এবার মফস্বলের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকায় আসতে চান সুমা। ইচ্ছে দেশের বড় এক অভিনেত্রী হওয়ার।
ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো অভিনেত্রী হওয়ার। সে লক্ষ্যে কাজও করে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে মাঝে এক ঝড় এসে বদলে দিলো তার সময়। শক্ত হোঁচট খেলেন চলার পথে। তিন বছর আগে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে এক খোপ্পরের সাথে বাড়ি থেকে বের হোন সুমা। স্বপ্ন দেখিয়েছিলো নায়িকা বানাবে। একপর্যায়ে তার স্বপ্নগুলো দু-স্বপ্ন করে দেয় সেই খোপ্পর। এতো কিছুর পরেও তিলে তিলে গড়া নিজের স্বপ্নটাকে দিব্যি ভুলতে পারেননি তিনি। অভিনয় জগতে আসতে পরিবারেরও কোনও প্রকার সহযোগীতা নেই। তার নেই বড় কোনও পরিচালক বা প্রযোজকের সাথে পরিচয়। এতো প্রতিকূলোতা পেরিয়ে এখন নিজেকে সবার মাঝে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন আর একদিন দেশের প্রখ্যাত অভিনেত্রী হিসেবে সুনাম কুড়তে আপ্রাণ প্রচেষ্টায় সুমা। কঠোর পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে একদিন তিনি তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে চান।
২০১৪ সালে জীবনের প্রথম নাটকে অভিনয় করেছেন সুমা নুসরাত। নাটকটির নাম ছিলো ‘রোজাদার’। পরবর্তীতে তিনি ‘ভালোবাসা অতপর, ও বাড়ির পাশে সামনে সোনালী দিন’সহ তিনটি নাটকে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ‘রোজাদার ও ভালোবাসা অতপর’ একুশে টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। প্রবল ইচ্ছে আর আকাঙ্খা মানুষকে তার স্বপ্নের চেয়েও বড় করে তুলে। সুমা নুসরাত তার জীবন যুদ্ধে যতটুকু ত্যাগ আর পরিশ্রম করেছেন তার সবটুকুই একদিন সুধে-আসলে পাবেন এমনটাই প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন