সিসিক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আ.লীগ, চূড়ান্ত হচ্ছেন কামরান!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ জন্য বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়ন অবধানকে হাতে রেখে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো পদক্ষেপ নিয়েছে দলটি। দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পরপরই তোরজোর করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে দলটির সূত্রে জানা গেছে। দলের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা যায়, গত সিটি নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারও একই ভাবে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়া হচ্ছে। ‌সূত্র জানায়, এবারও কামরানের উপর আস্থা রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। এই মুহুর্তে প্রার্থী পরিবর্তনের কোন দরকার নেই। দলের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে সিলেটে চূড়ান্ত নির্দেশ পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সূত্র।

আগামী সিসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ঝাপে ছিলেন সাবেক মেয়র ও আ.লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য, মহানগর আ.লীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, কাউন্সিলর আজাদুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা। তবে এবারও সাবেক মেয়র কামরানের উপর আস্থা রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে গত শনিবার তার দিকে প্রার্থীতার ‘গ্রীন সিগন্যাল’ দেখিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কামরান সমর্থকরা মনে করছেন, তিনি একজন জনসম্পৃক্ত ও কর্মীবান্ধব নেতা। এর আগেও আওয়ামী লীগ সমর্থীত প্রার্থী হয়ে পৌরসভাসহ সিটি নির্বাচনের জয়লাভ করেছেন তিনি। আগামী নির্বাচনেও চূড়ান্ত মনোনয়নের ঘোষনা আসবে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে গত রবিবার নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে নগরীতে মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন। সিসিক নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পরপরই সিলেটে নির্বাচনের হাওয়া বইছে সর্বত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঝড় উঠেছে।

তবে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের কাছে মুখ খুলেননি। তিনি বলেন- আমি আগেও বলেছি, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আমাকে যেখানেই কাজ করতে বলবেন, আমি সেখানে কাজ করবো।’ তিনি বলেন- ‘আমি জনসম্পৃক্ত একজন কর্মী। জনগণই আমার সব। জনপ্রতিনিধি না হলেও এখনো মানুষের জন্যই কাজ করছি। নগরবাসী যেখানেই ডাকছেন সেখানেই ছুটে যাচ্ছি। দীর্ঘ দিন আমি সিলেটের মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। এখনও আছি। আগামীতেও আমি মানুষের সেবা করে যাবো।’ বদরউদ্দিন আহমদ কামরান সিলেট নগরবাসীর দীর্ঘ দিনের নেতা। তিনি পৌর কমিশনার, পৌর চেয়ারম্যান ও প্রথম মেয়রও হন। গত সিটি নির্বাচনে তিনি বর্তমান বিএনপি দলীয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হেরে সিটি করপোরেশনের দীর্ঘ দিনের কর্তৃত্ব হারিয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃত্ব হারালেও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। এখনো সরব কামরান। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি সিলেটে নানা অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকছেন।

এদিকে- সিলেটে আওয়ামী লীগ ঘরানা থেকে অনেকেই মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা ও বেশ কয়েকবারের পৌর কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম। আসাদ উদ্দিন আহমদের পক্ষে এবারের ঈদে ব্যাপক পোস্টারিং করা হয়। তার বলয়ের নেতারাও ‘মেয়র পদে আসাদকে দেখতে চাই’ স্লোগানে নগরীতে পোস্টারিং করেন। পাশাপাশি ব্যানার, ফেস্টুনও বসান। সামাজিক মাধ্যমেও সরব ছিলেন নেতারা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো পদপদবিতে কখনোই ছিলেন না সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম। তবে সিলেটে অর্থমন্ত্রী বলয়ের নেতাদের ঘনিষ্ঠ তিনি। এ কারণে আওয়ামী লীগের হয়ে মেয়রপদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শনিবার দলীয় প্রধানের এমন ঘোষণায় তারা হোঁচট খেয়েছেন। গতকাল কামরান বলেছেন, গেলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচন হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় কামরানকে দলীয় প্রধান এ নির্দেশ দেন। দলীয় প্রধানের এই নির্দেশনার পর আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা প্রায় চূড়ান্ত বলে মনে করছেন নেতারা। আর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সিলেটে কামরানকে নিয়ে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটলো। ফের নতুন করে কামরানকে নিয়ে উজ্জীবিত হতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মীরা। ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অবশ্য কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের আগেও সিটি নির্বাচনে প্রার্থীতার বিষয়ে দলীয় প্রধানের ‘গ্রীন সিগন্যাল’ পেয়েছিলেন কামরান।

শেয়ার করুন