রাজন হত্যাকাণ্ডের দুই বছর আজ: রায় কার্যকরের দাবি পরিবারের

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলস রাজন হত্যাকা-ের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে আজ শনিবার। ঘটনার মাত্র তিন মাসের মধ্যে ১৭ কার্যদিবসে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা হলেও দুই বছরে রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের। উচ্চ আদালতে আসামিদের আপিলের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলামসহ চার আসামিকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বাকি ছয় আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া নূর মিয়া বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন পেলেও হাইকোর্ট তা কমিয়ে ৬ মাস করেছেন। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এখন রায় কার্যকর করতে যত আনুষ্ঠানিকতার বাকি। এ হত্যা-ের রায় কার্যকরের মাধ্যমে শিশু অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টরা। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রায় দ্রুত কার্যকর করা হলে বিচার বিভাগের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করনে আইন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ মৃত্যুদ- প্রাপ্ত চার আসামির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছে রাজনের পরিবার। তার বাবা শেখ আজিজুর রহমান জানান, ‘আদালতের রায়ের উপর বরাবরই আমি সন্তুুষ্ট ছিলাম। যতদিন রায় কার্যকর করা হচ্ছে না ততোদিন আমি স্বস্তির নিশ^াস নিতে পারছি না।’ যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন রাজনের বাবা।

স্পর্শকাতর এই হত্যাকা-ে সে বছরে দেশে ও প্রবাসে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ এবং ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। কোনো হত্যাকা-ের এতো দ্রুত বিচারের নজির বাংলাদেশে নেই বললে চলে।
২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মামলার মূল আসামি কামরুল ইসলাম ওই হত্যাকা-ের দুই দিনের মাথায় পালিয়ে সৌদি আরবে চলে যান। পরে ভিডিও দেখে প্রবাসীদের সহযোগিতায় তাকে আটক করে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। রাজন হত্যার দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে গত বছর ১৬ অগাস্ট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদার।

মাত্র ১৭ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালত ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর রায় ঘোষিত হয়। রায়ে চারজনকে মৃত্যু- দেওয়া হয়। এছাড়া একজনের যাবজ্জীবনসহ পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদ- দেওয়া হয়। আসামিদের মধ্যে কামরুল ইসলাম, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও জাকির হোসেন পাভেল আহমদের ফাঁসির আদেশ হয়।
নূর মিয়া প্রধান আসামি কামরুলের অন্যতম সহযোগী যিনি রাজনকে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করেন, তারপর ছড়িয়ে দেন ইন্টারনেটে। কামরুলের তিন ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদকে সাত বছর করে কারাদ- দেয় আদালত। দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলীর দ- হয় এক বছর করে। আসামিদের মধ্যে জাকির হোসেন পাভেল এবং কামরুলের ভাই শামীম আহমদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

রাষ্ট্রপক্ষে হাই কোর্টে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল ইসলাম ও নিজামুল হক নিজাম। আসামিপক্ষে ছিলেন এস এম আবুল হোসেন, বেলায়েত হোসেন, মো. শাহরিয়ার ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া পলাতক দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাসনা বেগম। ##

শেয়ার করুন