ধর্ষণের ঘটনায় ছাতক ও বিয়ানীবাজারে নিন্দা | ধর্ষক আলীম সাংসদ মানিকে ভাগ্নে

ছাতক ও বিয়ানীবাজার সংবাদদাতাঃ ছাতকে প্রেমের অভিনয় ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ানীবাজারের তরুণীকে ১৪ দিন বাসায় রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে ছাতক ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় নিন্দার ঝড় বইছে সর্বত্র। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবদুল আলীমকে রক্ষা করতে দলেবলে লেগেছেন ছাতক আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা। ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ারও চেষ্টা করছেন তারা। অভিযুক্ত আব্দুল আলীম ছাতক-দোয়ারা বাজারের সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিকের ভাগ্নে। এদিকে ধর্ষিতার পরিবারের পক্ষ থেকে সেখানকার সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে বিচার চাইবেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।

আমাদের বিয়ানীবাজার সংবাদদাতা জানান, ছাতকের এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের ভাগ্নে কতৃক বিয়ানীবাজারের তরুণী ধর্ষণের ধটনায় উপজেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিযুক্ত আলীম সরকার দলের এমপির ভাগ্নে হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনও আইনি পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করছে। ভুক্তভোগী তরুণী (২২) জানান, গত ৭ মে আলীম তাকে ফোন করে শেওলা জিরো পয়েন্টে যেতে বলে। সেখানে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে তরুণী প্রথমে রাজি না হওয়ায়। পরে তাকে জোরাজুরিতে রাজি করানো হয়। রাত সাড়ে ১২টায় আলীম তরুণীকে নিয়ে যায় তার ছাতক উপজেলার ধারণ গ্রামের বাড়িতে। সেখানে রাত ২টার দিকে ভয় দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করে আলীম। তরুণীর কান্না দেখে আলীম বাড়ি থেকে চলে যায়। দু’দিন পর ফিরে এসে বিয়ের আয়োজনের কথা বলে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করতে থাকে। ধর্ষিতার পরিবারের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান বিলাল, আবু তাহের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা সালিশে সমাধান করার কথা বলেন। সেখানে তরুণীর ওপর অপবাদ দেয়া হয়। তরুণীর সম্ভ্রমের মূল্য ৭০ হাজার টাকা ধার্য করে রফাদফা করার প্রস্তাব করা হয়। এতে অপমানে ক্ষোভে তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ছাতক থানার ওসির অনুরোধে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরকে জানাই। পরে এ নিয়ে কোনো পক্ষই আমাকে জানায়নি। এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।

এদিকে ছাতক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ২১ মে তরুণীর স্বজনরা আলীমের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করেছে। ইউপি চেয়ারম্যান বিলাল চেয়ারম্যান ও  বিয়ানীবাজারের কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরসহ স্থানীয়রা সালিশে সমাধান করার কথা বলেন। সেখানে তরুণীর ওপর অপবাদ দেয়া হয়। তরুণীর সম্ভ্রমের মূল্য ৭০ হাজার টাকা ধার্য করে রফাদফা করার প্রস্তাব করা হয়। আলীমের মামা বিলাল চেয়ারম্যান তরুণীর পারিবারকে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এ টাকার ২০ হাজার তরুণীর চাচার কাছে রয়েছে। ৫০ হাজার টাকা বিয়ানীবাজারের কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরের কাছে রয়েছে। মেয়ের পক্ষ টাকা নেয়নি। ধর্ষণের শিকার তরুণী মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

আব্দুল আলীমের মা রীনা বেগম বলেন, ছাতকের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক আমার চাচাতো ভাই। আলীমের মামা বিলাল উদ্দিন উত্তর কুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। বিলালের উদ্যোগে সালিশ কমিটি বসে মেয়েটির জন্য ৭০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেছেন। ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমানও বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির জন্য সহযোগিতা করছেন। ধর্ষণের ঘটনায় ছাতক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিরুল্লাহ খান বলেন, বিষয়টি দৈনিক জাতীয় একটি পত্রিকাতে পড়ে জানতে পেরেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শেয়ার করুন