সাবেক প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতার কথিত শ্যালকের জন্য আটকে আছে জবি ছাত্রলীগের কমিটি

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের কথিত এক শ্যালকের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের কমিটি আটকে আছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ছাত্রলীগের উল্লেখযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার এখনো ছাত্রলীগের বিশাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করেন। ছাত্রলীগের বড় বড় ইউনিটগুলোর কমিটি প্রদানে তিনি অন্যতম ভুমিকা পালন করেন। লিয়াকত শিকদারের পরিচিতজনেরা তার সুপারিসে বিভিন্ন ইউনিটের নেতা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন,“জগন্নাথের এবারের কমিটিতে লিয়াকত শিকদারের শ্যালক ক্যন্ডিডেট। তাকে নেতা বানানোর জন্য লিয়াকত শিকদার বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।এজন্য জগন্নাথের কমিটি আটকে আছে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ইবনে সুমন লিয়াকত শিকদারের শ্যালক বলে পরিচিত,এমন তথ্য দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা এর আশেপাশে ভাইরাল হিসেবে প্রচলিত এবং তার কর্মীদের মুখে মুখে প্রচারিত।
অথচ খোজঁ নিয়ে জানা যায়, লিয়াকত শিকদারের সাথে সুমনের কোন পারিবারিক সম্পর্কই নেই। তিনি লিয়াকত শিকদারের শ্বশুরবাড়ীর এলাকার ছেলে। এর সুবাদে লিয়াকত শিকদারের বাসায় বাজার করা,ঘড় মোছা,কাপড় ধোয়া,রান্না করা ,তার বউয়ের নানা আদেশ পালন করা সহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখে লিয়াকত শিকদারের আস্থাবাজন হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।তার সাথে লিয়াকত শিকদারের সম্পর্ক এখানেই।
এদিকে নানা রকম অভিযোগে কলঙ্কিত হয়ে আছেন সাইফুল্লাহ ইবনে সুমন।তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রমান মিলে। অভিযোগ পাওয়া যায় সাইফুল্লাহ ইবনে সুমন তার কর্মীদের নিয়ে চাঁদাবাজি, বাস ভাংচুর, নেশা, ছিনতাই, সাংবাদিকদের উপর হামলা সহ নানা অপকর্মের সথে লিপ্ত হতে কোন প্রকার দিধাগ্রস্থ করেননি। লিয়াকত শিকদারের শ্যালক পরিচয় দিয়ে সেসব ঝামেলার সমাধান ঘটাতেন। গত ১৮ এপ্রিল ২০১৬ সোমবার রাত সাড়ে দশটায় চাদা তুলতে গেলে সুমনের কর্মীদের সাথে আজমেরি বাসের স্টাফদের বাকবিতন্ডা হয় ।এর জের ধরে পরদিন সকালে তার উপস্থিতিতে তার কর্মীরা ১৫ টি বাস ভাঙচুর করে অন্তত ৫ জনকে গরুতর আহত করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুমনের গ্রুফের ৩ কর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপার্দ করে। এদিকে তার বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে কলম ধরার চেষ্টা করায় গত ২৮ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে জবি ক্যাম্পাসের ভিতরে এনটিভি অনলাইনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. শাহ আলম বেপারীর উপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর জখম করেন এই সুমন ও তার কর্মীরা।তার অনেক কর্মীরা শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততার প্রমান পাওয়া যায়। সাইফুল্লাহ ইবনে সুমন ক্যাম্পাসে ইয়াবা সুমন নামে পরিচিত।
এদিকে ‘এম নুরুর রহমান ফরহাদ’ নামে সুমনের এক কর্মী ফেইজবুকে সুমনের সাথে সেলফি তুলে ‘ভাই আমার ভালবাসা’ লিখে পোস্ট করেন। আবার তার এই কর্মী নিজস্ব ফেইজবুকে শিবিরের বিভিন্ন পোষ্ট শেয়ার করেন।তাকে বাশেরকেল্লার একটি পেষ্ট শেয়ার করতে দেখা গেল। ‘আমি গর্ব করি কারন আমি মুসলমান’ নামক একটি ফেইজের পোষ্ট তিনি শেয়ার করেন । যেখানে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি করে বিভিন্ন লেখা ছিল।
সুমনের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য তাকে ও তার আপন ভাই শাকিলকে বেশ কয়েকবার থানায়ও যেতে হয়েছিল। ছবিতে তার অপকর্মের অল্পকিছু খন্ডচিত্র দৃশ্যমান।
এদিকে কবে হবে জবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি তার ধোয়াশা কারো মন থেকে যেন কাটছেনা। এ নিয়ে অধীর আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক,শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা,কর্মচারীদের মধ্যে।তবে কে হবেন জবি ছাত্রলীগের আগামি দিনের কান্ডারী তা বলা যাচ্ছেনা।

শেয়ার করুন