‘শুভ জন্মদিন জাহেদুর রহমান রবিন’

বাংলাদেশি চিত্র যাদুকর জাহেদুর রহমান রবিনের ২৯ তম জন্মদিন আজ (২৯ এপ্রিল)। গুণি এই চিত্রশিল্পীর জন্মদিনে ‘নিউজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডটকম’ পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো শুভেচ্ছা।

একনজরে জাহেদুর রহমান রবিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার নবীনগরের জাফরপুর গ্রামে তার জন্ম হলেও এখন জীবিকার তাগিদে থাকেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে বড় শহর দুবাইয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রবিনের আঁকা ছবি দেখে যোগাযোগ তার সঙ্গে। সেই ভালোবাসার টানেই ছবি নিয়ে কথাও বলা। আঁকতে পারি আমরা আসলে সবাই। প্রতিটি আয়নাইতো আমাদের নিজের ছবি, এরপরও রবিন ভালোবাসেন মানুষ আঁকতে। কারণ এর মাধ্যমেই তিনি দেখতে পান ভেতরের মানুষটাকে। যেন পরিচিত হয়ে উঠেন ওই ভেতরের মানুষটার সাথে।

বাংলাদেশের অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তির ছবি মূর্ত হয়ে উঠেছে রবিনের তুলিতে। পোট্রেট বেশি আঁকলেও তিনি তার সৃষ্টিকর্মকে সীমাবদ্ধ রাখেননি একমুখীতায়। সেটি ছড়িয়ে দিয়েছেন নানামুখীতায়। তাইতো তিনি রঙের কারিগর। ভালোবাসেন রঙ নিয়ে খেলতে। যা সৃষ্টির জগতকে করে তুলে মায়াময়।

তার চিত্রকলা দেখেই মনে হয় তিনি যে ভেতরটা দেখার জন্য ভাবছেন মনের বহিরাঙ্গনে সেটিকেই নিয়ে এসেছেন টেনে। যা মূর্ত হয়ে উঠেছে আমাদের মাঝে। একই সঙ্গে রবিন আরো একটি কাজ করে চলছেন, বিদেশী মানুষের কাছে তুলে ধরছেন আমাদের সময় আর সমাজকে। নিজের দেশকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন বহিঃবিশ্বের কাছে।

বাবা মায়ের বড় ছেলে জাহিদুর রহমান রবিন বাবার মৃত্যুর পর গ্লাস পেইন্টিং এর কাজ নিয়ে পাড়ি জমান দুবাইয়ে। স্কুল জীবন থেকে আঁকাআঁকি, অভিনয় আর কবিতায় হাতেখড়ি। পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কারও। কিন্তু তুলির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে অন্যগুলোকে জানাতে হয়েছে বিদায়। তার কিছুটা খেদ হয়ে গেছে প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ না থাকায়। ধর্মভীরু পরিবারে মনে করা হতো, চারুকলায় পড়লেই ছেলের সর্বনাশ হবে। কিন্তু অন্তরে যার নেশা তাকে তো আর দমিয়ে রাখা যায় না। তিনি শুরু করলেন ছবির পাঠ। দেশি-বিদেশি নানা বই পড়া। একই সঙ্গে চায়না-মিশরসহ বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে গড়ে তুললেন সখ্যতা। শিখলেন তাদের কাছ থেকে। আর চাকরির ফাঁকে ফাঁকে চলছে রঙ-তুলির সাথে সংসার। সে দেশের বড় বড় হোটেল বা ধনীদের বাড়িতে অফিসে শোভা পাচ্ছে রবিনের পেইটিং।

রবিন চেষ্টা করেন প্রতিটি চিত্রকর্মের মাঝে কোনো না কোনো বার্তা পৌঁছে দিতে। এরপরও তার চিত্র নিয়ে রয়েছে সমালোচনা।
জবাবটা যেন তৈরিই রেখেছেন, ‘যাদের নন্দনতত্ত্বের অন্ধিসন্ধি বোঝার ক্ষমতা নেই, এরাই চিত্রকর্মের পাপ খুঁজে শিল্পীদের গালি দেন।’

শেয়ার করুন