সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি: প্রধানমন্ত্রীর কাছে চেয়ারম্যান সাহেল’র আকুল আবেদন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেষ রক্ষা আর হলনা তলিয়ে গেল আমাদের সুনামগঞ্জ জেলার খাদ্যভান্ডার খ্যাত শনির হাওড়ের সব ফসল। কি দিয়ে নিজেদের সান্তনা দিব কোন ভাষা খোজে পাচ্ছিনা। একটাই সান্তনা সরকার প্রশাসন স্থানীয় জনগন সবাই মিলে চেষ্টা করেছে কিন্তু উজানের পানির প্রবল চাপ ভেঙে দিয়েছে শেষ মনোবলটুকু।এই কিছু দিন আগেও নিজেদেরকে সান্তনা দিয়েছি, যখন দেখেছি লাখো কৃষক পরিবারের কথা চিন্তা করে তাদের দুঃখ বেদনাকে উপলব্ধ করে সুনামগঞ্জ সদর আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ নিষ্ঠুর প্রকৃতির কাছে অসহায় সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। বুকে আশার সঞ্চার হয়েছে যখন শুনেছি দিরাই শাল্লা থেকে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডঃ জয়া সেন গুপ্ত টেলিফোনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কে হাহাকার করে বলেছেন “দিদি আমি শপথ নিয়ে কি করব? আগে আমার জনগনকে কে বাচান, অকাল বন্যা আমাদের সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে দয়া করে কিছু বলুন, কিছু করুন”। আমাদের মধ্যে সাহস সঞ্চার হয়েছে যখন দেখলাম সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ এর অভিভাবক বৃন্দ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট ও পৌর মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানান। যখন দেখলাম বিভিন্ন শ্রেণি, পেশার মানুষ দল মত নির্বিশেষে প্রাণ প্রিয় সুনামগঞ্জ জেলার অসহায় কৃষক পরিবারে জন্য এক কাতারে দাঁড়িয়ে এই জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। তখন ভেবেছি যাক আমরা একা নই, আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ইনশাআল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌছাবে। নিশ্চই বাঙ্গালী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রিয় ভাটি বাংলাকে রক্ষায় বঙ্গকন্যা আমাদের প্রাণ প্রিয় জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু না কিছু আমাদের জন্য অবশ্যই ব্যবস্থা নিবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের সেই আশা বাস্তবে রুপ নিয়ে বিশ্বাসে পরিণত হল যখন দেখলাম হাওর অঞ্চলের রাজনীতির রাজপুত্র হাওড় অঞ্চল তথা ভাটি অঞ্চলের মাটি,ও মানুষের প্রিয় মুখ আমাদের সুখ দুঃখের সাথী প্রিয় প্রতিবেশী, গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, এবারো নিজ জন্মস্থান কিশোরগঞ্জ এর পাশাপাশি প্রতিবেশী সুনামগঞ্জেও অসহায় ফসল হারা মানুষের আর্তনাদ শুনে ছুটে এসেছেন, যাকে বঙ্গভবনের চার দেয়ালের কোন প্রটোকল আটকে রাখতে পারেনি। #মহামান্য_রাষ্ট্রপতি_আব্দুল_হামিদ সুনামগঞ্জ নেমেই সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলেছেন। গভীর বেদনাহত মন নিয়ে বলেছেন এবারের মতো ফসলহানি অতীতে কখনো ঘটেনি। বলেছেন “আমার এলাকায় আমিই সবচেয়ে প্রবীণ কিন্তু অতীতে কখনো কাঁচা ধান,পরিপূর্ণ হওয়ার আগেই ফসল এভাবে তলিয়ে যাওয়ার হৃদয়বিদারক দৃশ্য এর আগে আমি কখনো দেখিনি”।

উনি আরও বলেন সংবিধান ও আইন আমার হাত পা বেঁধে দিলেও হাওরপাড়ের কৃষকের কান্না আমার হৃদয়কে এতটাই স্পর্শ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের সঙ্গেও আমি কথা বলেছি। মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতিটি কথা তখন আমাদের হাওড়পারের মানুষদের মন জয় করে নিয়েছিল। তার পরদিনই ছুটে এসেছেন বাংলাদেশ সরকারের দূর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম) সান্তনা সমবেদনা জানিয়েছেন বৈরী প্রকৃতির শিকার সুনামগঞ্জের মানুষের প্রতি। ঘোষনা করেছেন আপনার অমিয় বাণী – ইনশাআল্লাহ সুনামগঞ্জের একজন মানুষ ও না খেয়ে মারা যাবেনা ঘোষনা দিয়েছিলেন।

সরকার কতৃক গৃহীত, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচীর। এত কিছু দেখে আমরা মনে প্রাণে খুশি হয়েছিলাম। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর একজন নগণ্য কর্মী হিসেবে সেদিন বুক ফুলিয়ে সবাইকে বলেছিলাম এই দেখ, এটাই শেখ হাসিনার সরকার, আওয়ামীলীগ এর সরকার, কৃষক, শ্রমিক, জনবান্ধব সরকার। আসলেই সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আপনি-আপনার সরকারের কর্তা ব্যাক্তিরা। আমাদের আশার সঞ্চার হয়েছিল প্রাকৃতিক দূর্যোগে আঘাতপ্রাপ্ত এই মনে।

যখন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সফর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেণ, দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রীর ঘোষণা, সমাজের সর্বস্থরের মানুষের সহমর্মিতা, সর্বহারা কৃষকের কান্না মুছে ব্যথিত হৃদয়কে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন ঠিক তখনি আমাদের ভাঙা হৃদয় ও আত্মসম্মানে তীব্রভাবে বড়ই নিষ্ঠুরতার আঘাত চালিয়েছেন ত্রাণ সচিব শাহ কামাল। এ যেন কাটা ঘায়ে নুনে-র ছিটা।

#মাননীয়_প্রধানমন্ত্রী_শেখ_হাসিনা, আপনি কি জানেন? সুনামগঞ্জে ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে গিয়ে, ত্রান সচিব শাহ কামাল জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সুধীজনদের সামনে নিষ্ঠুরভাবে বলেছেন, আইনে রয়েছে-অর্ধেক মানুষ মারা গেলেই কেবল একটি এলাকাকে দুর্গত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এখানে মানুষ মরা দূরে থাক, একটি গরু-ছাগলও তো মরেনি। যেখানে একটি ছাগল ও মরেনি সেখানে দুর্গত এলাকা ঘোষণা হয় কি করে? তিনি উপহাস করে বলেন, যারা দুর্গত এলাকা ঘোষণার সস্তা দাবি করছে তাদের জ্ঞান নেই। তখন এই অনৈতিক বক্তব্যের সাথে শুধুমাত্র সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য পীর মিসবাহ ও জেলার সম্মানিত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ দ্বিমত পোষণ করলেও আরও যেসব দলীয় এম পি ও জনপ্রতিনিধিরা ছিলেন কেউ কোন প্রতিবাদ করেননি। সবাই বধির ছিলেন, তাদের কৃতকর্ম যদি ফাস হয়ে যায় এই ভয়ে। এতে শুধু এই জেলাই নয়, বিস্তৃীর্ণ হাওর অঞ্চলের মানুষকেও বিক্ষুব্ধ করেছে। উপস্থিত অনেকে সুধীজন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, ধান গেছে, মাছ গেছে, এখনতো শেষ সম্বল মান সম্মান ও চলে যাচ্ছে। ত্রাণ সচিব শাহ কামালের এই জ্ঞানহীন কথা ও নিষ্ঠুর ব্যবহার সব হারা কৃষকদের প্রতি বর্তমান সরকারের সকল সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সরকার দলীয় এম পি,জনপ্রতিনিধিদের নিশ্চুপ ভূমিকা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ত্রাণ সচিব শাহ কামালের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ দাম্ভিক বক্তব্য অসহায় হাওড়পাড়ের মানুষের মধ্যে হতাশারই জন্ম দেয়নি, ক্ষোভের সঞ্চার ঘটিয়েছে বর্তমান সরকারে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিও। তাই দয়া করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করুন, নয়তো জনবান্ধব এই সরকার, অতি আবেগী সুনামগঞ্জবাসীর চরম আস্থা সংকটে পড়তে পারে। যা কোন ভাবেই আমাদের জন্য মঙ্গলময় হবেনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সুনামগঞ্জ জেলায় বসবাসকারী প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের প্রায় সবাই কোন না কোন ভাবে কৃষি পরিবারের সাথে সম্পর্কিত। এই অঞ্চলের মানুষ সব সময়েই প্রকৃতির দুর্যোগময় আঘাত সহ্য করে এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বেচে থাকে ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনার নিশ্চয় মনে আছে, গত বছর সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় প্রকৃতির ভয়াল হামলায় দক্ষিন খুরমা ইউনিয়ন জাউয়া ইউনিয়ন চরমহল্লা ইউনিয়ন ,সহ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ঘরবাড়ি সহায় সম্বল সব হারিয়েছিল। মহান আল্লাহ তালার হুকুমে আপনার আন্তরিকতা ও সরকারি সহায়তায়, এই অঞ্চলের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগীতা ও সহমর্মিতায় আমরা সে ক্ষতও কাটিয়ে উঠেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রকৃতি যে কোন সময় তার ভয়াল রুপ ধারণ করে আমাদের উপর আঘাত আনতে পারে এই অঞ্চলের মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই এই জ্ঞানটুকু রাখে। কিন্তু একটি স্বাধীন সফল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নিজের বিপদের কথা বলে, আপদকালীন মূহুর্তকে মোকাবিলার জন্য নিজের ভোটে গঠন করা সরকারের কাছে ন্যায্য দাবি জানানো যে জ্ঞানহীন মূর্খতা এই জ্ঞান কিন্তু আমাদের ছিলনা। আল্লাহ তালা এই মহাজ্ঞান শুধু সচিব শাহ কামালকেই দিয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমাদের এই ভাটি অঞ্চলে মুরুব্বীরা বলেন “বল্লমের ঘাও শুকায়, কিন্তু ঠোটের ঘাও শুকায়না”। প্রিয় জননেত্রী আমাকে ক্ষমা করবেন, এই দূর্যোগ, দূর্ভোগ এর মূহুর্তে ত্রাণ সচিব শাহ কামালের উপহাসে আমাদের সবাই আঘাতপ্রাপ্ত। আর এই আঘাতের বিচারের জন্য আমরা প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ আপনার পানে চেয়ে আছি। তাই দয়া করে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করুন। কারন আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভালবাসার সৃতি বিজরিত সুনামগঞ্জ জেলাকে, বঙ্গকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বেচে থাকতে সুনামগঞ্জ বাসী কে কেউ অপমান বা অবহেলা করে পার পাবে না, ইনশাআল্লাহ। আমরা আপনার কাছে সব সময় আশাবাদী। আমরা জানি যতদিন জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে রবে এ দেশ, পথ হারাবেনা বাংলাদেশ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমাদের সবার জন্য মহান আল্লাহ এর দরবারে দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ যেন প্রকৃতিক দূর্যোগ, দূর্ভোগের এই কালো মূহুর্তকে উনার অসীম রহমতের দ্বারা, আমাদের সকলের ভালবাসায়, মানবিক সহযোগীতা,ও সহমর্মিতার গুণে কাটিয়ে উঠে আগামীর আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার তৌফিক দান করেন। আমিন।
চরম ক্ষোভ, দেশ ও দলের প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্যের দায়বদ্ধতা থেকে এই লিখার সকল ভূল ত্রুটি মার্জনা করে, আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।
জয় বাংলা।
জয় বঙ্গবন্ধু।

আপনার একান্ত বাধ্যগত, সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেল
চেয়ারম্যান
৭নং সিংচাপইড় ইউপি। সাবেক কার্যকরী সদস্য বাংলাদেশ যুবলীগ,
সুনামগঞ্জ জেলা শাখা।

শেয়ার করুন