বিয়ানীবাজারে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২০

বিয়ানীবাজার সংবাদদাতাঃ বিয়ানীবাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের গজুকাটা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গজুকাটা গ্রামের সাবেক মেম্বার আফতাব আলীর গোষ্ঠী ও হাজী আকদ্দছ আলীর গোষ্ঠীর লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ২ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

দুবাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনার তিনদিন পূর্বে গজুকাটা গ্রামের আকদ্দছ আলীর বাড়ির সুপারী চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে উনার গোষ্ঠীর রুবেল আহমদ (১৯)। এ সময় বাড়ির মালিক পক্ষ সুপারী চুরির দায়ে ধৃত রুবেলকে তিরস্কার ও গালাগালি করেন। এ ঘটনায় একই গ্রামের আফতাব আলী (সাবেক মেম্বার) সুপারী চোরের পক্ষ নিয়ে পরদিন আকদ্দছ আলীর গোষ্ঠীকে হুমকি দেন। এ নিয়ে হাজী আকদ্দছ আলীর গোত্রের লোকজন শনিবার সকালে নিজেদের মধ্যে এক সভায় মিলিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বিষয়টিতে আফতাব আলী জড়িত হওয়ার কারণ জানতে গ্রামের প্রতিনিধিরা আফতাব আলীকে জিজ্ঞাস করেন। এ নিয়ে আফতাব আলীর সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা ঘটে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা থেকে একদল পুলিশ ঘটনা স্থলে ছুটে যায়। জকিগঞ্জ সার্কেল এসপিও ঘটনাস্থলে আসেন। বেলা ১টার দিকে পুলিশ দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের গুরুতর আহত জামিল আহমদ (২৫) ও দেলোয়ার হোসেন (২৩) কে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানা ওসি (তদন্ত) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এখন পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন না থাকলেও পাশে পাশে পুলিশ রয়েছে। থানায় কোন পক্ষই এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।

শেয়ার করুন